Random Posts

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড , ১ দিনের ট্যুর প্লান || RANGAMATI & KAPTAI LAKE BANGLADESH TRAVEL GUIDE

রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড (RANGAMATI & KAPTAI LAKE BANGLADESH TRAVEL GUIDE):

আকাশের মেঘ ছুঁয়ে যায় পাহাড়ের বুক। চারিদিকে সবুজের সমারোহ আর পাহাড়ঘেরা এ জেলায় রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাই লেক । এটাই রাঙ্গামাটি । নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অনুপম আধাঁরের রাঙ্গামাটি জেলা তার বৈচিত্রময়তার কারণে আকর্ষণীয় স্থান হিসাবে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের মনে স্থান করে নিয়েছে। 


রাঙামাটির দর্শনীয় স্থান সমুহঃ

রাঙামাটিতে ভ্রমণ করার জন্য রয়েছে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে কাপ্তাই লেক, পর্যটন মোটেল, ডিসি বাংলো, ঝুলন্ত ব্রিজ, পেদা টিংটিং,সুবলং ঝর্ণা, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, পলওয়েল পার্ক, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেক্ট্রিক প্রজেক্ট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, হ্যাপি আইল্যান্ড,অরন্যক হলিডে রিসোর্ট,আসাম বস্তি,বিলাই ছড়ি, গাছ কাটা ঝর্না, মুপ্পছড়া ঝর্না, ধুপ পানি ঝর্না ,কাপ্তাই কায়াক ক্লাব, পেনোরমা ঝুম রিসোর্ট,কাপ্তাই নেভি ক্যাম্প ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।


রাঙামাটি শহর ও আশপাশের স্পটঃ

রাঙামাটিতে পর্যটন ঝুলন্ত সেতু, রাজবাড়ি বন বিহার,চাকমা রাজার বাড়ি,উপজাতীয় জাদুঘর, জেলা প্রশাসকের বাংলো, সুভলং ঝর্ণা, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফ স্মৃতিসৌধ, পেদা টিং টিং,টুক টুক ইকো ভিলেজ, চাং পাং রেস্তোরাঁ সহ দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। এগুলো দেখার জন্য সারাদিনের জন্য ইঞ্জিন চালিত ট্রলার অথবা স্পিড বোর্ড ভাড়া নিলে ভালো ।


পর্যটন মোটেল ও ঝুলন্ত সেতুঃ

শহরের শেষপ্রান্তে কর্ণফুলী হ্রদের কোলঘেঁষে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের অবস্তান । মোটেল এলাকা থেকে দৃশ্যমান হ্রদের বিস্তীর্ণ কাপ্তাই লেকের জলরাশি আর দূরের নীল উঁচু-নীচু পাহাড়ের সারি বিমোহিত করবে যে কাউকেই। পর্যটন মোটেলের পাশে কাপ্তাই হ্রদের ওপর ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতুর অবস্তান। যা এই কমপ্লেক্সের গুরুত্ব ও আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়েছে। দুটি পাহাড়ের মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে কাপ্তাই হ্রদের উপর ঝুলে আছে সেতুটি । বর্ষার সিজনে এই ব্রিজে হাটু পানি থাকে । এটি দেখতে হলে পর্যটন করপোরেশনকে দিতে হবে জন প্রতি ২০ টাকা। রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি হয়ে সড়ক পথে সরাসরি ‘ঝুলন্ত সেতুতে’ যাওয়া যায়। এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। যারা ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বাস সার্ভিসে আসবেন তাদের তবলছড়িতে অথবা রিজার্ভ বাজারে নেমে সিএনজি অথবা অটোরিক্সা রিজার্ভ ভাড়া করে যেতে হবে।



সুবলং ঝর্ণাঃ

রাঙামাটি সদর হতে সুবলং এর দূরত্ব প্রায় ২৫ কিঃলোঃ। রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার অথবা পর্যটন ঝুলন্ত ব্রিজ থেকে স্পিড বোট ও ইঞ্জিন চালিত নৌ-যানে করে সহজেই সুবলং যাওয়া যায়। শীতের সিজনে ঝর্ণায় পানি খুব বেশি থাকে না তবে ভরা বর্ষা মৌসুমে মূল ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উচু থেকে নীচে আছড়ে পড়ে ঝর্ণার নীচে থাকা পাথরের উপর এবং অপূর্ব সুরের মুর্ছনায় পর্যটকদের মুগ্ধ করে। ইচ্ছে করলে গোসল সারতে পারেন ঝর্নার শীতল পানিতে। চাইলে কিছুক্ষণের জন্য সুভলং বাজার ঘুরে আসতে পারেন। এখানে সেনাবাহিনীর একটি ক্যান্টিনে খাবার দাবার পাবেন । সেখানে চাইলে সেরে নিতে পারেন চা-নাস্তা পর্ব। আর ট্র্যাকিং করার ইচ্ছা থাকলে শুভলং পাহাড়েও ঘুরে আসতে পারেন  তবে বানর হতে সাবধান ফেরার পথে শুভলং ঝর্নার পাশেই ছোট ১টি ঝর্ণা রয়েছে যেটা দেখতে শুভলং থেকেও অনেক বেশি সুন্দর সেখানেও ঘুরে আসতে পারেন । ইচ্ছে করলে গোসলের পর্বটা এখানেও সারতে পারেন ।


টুক টুক ইকো ভিলেজঃ

রাঙামাটি ঘুরতে যাওয়া দর্শনার্থীদের পাহাড়ি বুনো পরিবেশে থাকা এবং খাওয়ার জন্য কাপ্তাই লেকের শান্ত ও মনোরম পরিবেশে গড়ে উঠেছে ১ টি পর্যটন স্পট যার নাম টুক টুক ইকো ভিলেজ। লেকে দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত পর্যটকদের জন্য রয়েছে উপজাতীয় রেস্তোরাঁর রকমারি খাবারের স্বাদ নেয়ার সুযোগ। কাঠ এবং বাঁশের কারুকাজে তৈরি এ রেস্তোরাঁয় পাহাড়ি মজাদার সব খাবার-দাবার পাওয়া যাবে। ৫০ একর জায়গা জুড়ে পুরো ইকো ভিলেজটিতে সুদৃশ্য বেশ কয়েকটি কাঠের কটেজ রয়েছে ।


ছবিঃটুক টুক ইকো ভিলেজ(Tuk Tuk Eco Village)


পেদা টিংটিং ও চাংপাংঃ

কাপ্তাই লেকের চারিদিকে কেবল পাহাড় আর হ্রদ। বুনো প্রকৃতি ছাড়া আর কোন কিছুই আশা করা যায় না এখানে। আপনার ভ্রমনের  চলতি পথে টিলার উপর দেখবেন পেদা টিং টিং এবং চাং পাং রেস্তোরা। এখানে পাহাড়ি ঐতিহ্যবাহি খাবারের পাশাপাশি রয়েছে আরামে কিছুটা সময় কাটাবার জন্য বেশ কয়েকটি কাঠ ও বাঁশ দিয়ে নির্মিত ছাউনী। আপনারা শুভলং ঝর্নায় যাওয়ার সময় এই ২ টি রেস্তোরার যে কোন ১ টিতে দুপুরের খাবারের অর্ডার করে যেতে পারেন কারন আগে থেকে খাবার অর্ডার না করলে এইসব রেস্তোরায় খাবার পাওয়া যায় না ।


বালুখালীঃ

রাঙামাটি শহরের কাছেই বালুখালী কৃষি উদ্যান । এই খামারের বিশাল এলাকা জুড়ে যে উদ্যান রয়েছে, তা এককথায় চমৎকার। এখানে প্রায় সময় দল বেঁধে লোকজন পিকনিক করতে আসে। উদ্যানটিতে ফল-ফুলসহ অসংখ্য প্রজাতির গাছগাছালি রয়েছে। রাঙামাটি শহর থেকে ট্রলার অথবা স্পিডবোট ভাড়া করে এখানে আসা যায়। 


রাজ বনবিহারঃ

রাঙামাটির দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাজ বনবিহার। রাঙামাটির বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর প্রধান তীর্থ স্থান এটি। প্রতি শুক্রবার ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে এখানে চলে প্রার্থনা। রাজ বনবিহারে দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে পারেন কাপ্তাই লেকের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। এখানে প্রতি বছর চাকমা আদিবাসী সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান আনন্দ-উৎসব বিজু উৎসব পালন করা হয়। বাংলা বছরের শেষ দুই দিন ও নববর্ষের দিন এই উৎসব পালন করা




ফুরোমোনঃ

কতুকছড়ি যাওয়ার পথে রাস্তার পাশেই এ পাহাড়টি অবস্থিত। এ পাহাড় থেকে পুরো শহর দেখা যায়।এর উচ্চতা এক হাজার ৫১৮ ফুট ।  এমনকি মেঘ না থাকলে চট্টগ্রাম শহরও দৃষ্টিগোচর হয়। এখানে আছে আন্তর্জাতিক ভাবনা কেন্দ্র। শহরের কোলাহল ছেড়ে এখানে নিরিবিলি পরিবেশে এক বেলা কাটিয়ে যাওয়া যায়।এখানে রাজবন বিহারের ফুরামোনা শাখা নামে বৌদ্ধদের একটি মন্দির রয়েছে। ফুরামোন যেতে হলে প্রথমে অটোরিকশা ভাড়া করে সাপছড়ি পর্যন্ত গিয়ে এরপর হেঁটে যেতে হবে। তবে এ স্থানে একা একা যাওয়া ঠিক হবে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবগত করে কিংবা তাদের সহযোগিতা নিয়ে যাওয়া উচিত।


মোনঘর ও সুখী নীলগঞ্জঃ

রাঙামাটি শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে রাঙাপানি এলাকায় চার একর পাহাড়ের উপর সুখী নীলগঞ্জ এর অবস্তান । শহর থেকে অটোরিকশা ভাড়া করে এখানে আসা যাবে। এখানে সবুজ বৃক্ষরাশি ঘেরা পুলিশ লাইনের সুখী নীলগঞ্জ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে নির্মিত মিনি চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ঘুরে আসতে পারেন।


ডিসি বাংলোঃ

রাঙামাটি শহরের জিরো পয়েন্টে কর্ণফুলী হ্রদের গা ঘেঁষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের ডাক বাংলো। সংযোগ সড়ক ছাড়া বাংলোর তিনদিকেই ঘিরে রেখেছে কাপ্তাই হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি। রাঙামাটি শহরের যে কোন স্থান হতে অটোরিক্সাতেও এখানে আসা যায়। তবে বাংলো এলাকায় প্রবেশের জন্য অনুমতি আবশ্যক।

উপজাতীয় যাদুঘরঃ

রাঙামাটির প্রবেশ দ্বারেই ক্যান্টনমেন্টের পাশেই উপজাতীয় যাদুঘর। ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু হয় উপজাতীয় যাদুঘরের। ২০০৩ সালে নতুন ভবন নির্মিত হলে তা আরো সমৃদ্ধ হয়। এ যাদুঘরে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জাতিসত্তাসমূহের ঐতিহ্যবাহী অলংকার, অস্ত্র-শস্ত্র, প্রাচীন মুদ্রা, পোষাক-পরিচ্ছদ, বাদ্যযন্ত্র, ব্যবহার্য তৈজষপত্র, পুঁতিপত্র, উপজাতীয় জীবনধারার বিভিন্ন আলোকচিত্র দেখতে পাবেন।এখানে মাত্র পাচঁ টাকা টিকেট কেটে ভেতরে ঢুকতে পারবেন।

জল বিদুৎ প্রকল্প ও কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানঃ

১৯৬০ সালে জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে কর্ণফুলী কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়। কৃত্রিম এ হ্রদের আয়তন ২৯২ বর্গমাইল। এই জল বিদুৎ কেন্দ্রের ভেতরে যেতে হলে সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি আবশ্যক । 


কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানঃ

প্রায় তের হাজার একর এলাকা নিয়ে কর্ণফুলী নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে রয়েছে বন বিভাগের দু’টি বিশ্রামাগার। বিশ্রামাগারের চারপাশে কর্ণফুলী নদী, পাহাড়ের সবুজের সমারোহ। রাঙামাটি সদর হতে এর আনুমানিক দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। উদ্যানে যেতে হলে চট্টগ্রাম হতে সরাসরি কাপ্তাই যেতে হবে অথবা রাঙামাটি এসে শহরের আসামবস্তি এলাকা থেকে অটোরিক্সা ভাড়া করেও কাপ্তাই জাতিয় উদ্যানে যাওয়া যায়।


আসামবস্তি ব্রীজঃ

এছাড়া আসাম বস্তি-কাপ্তাই হ্রদ সড়কটি চালু হওয়ার পর এটিও বাড়িয়েছে রাঙামাটির সৌন্দর্য। এ সড়ক দিয়ে যেতে চোখে পড়বে পাহাড় ও কাপ্তাই হ্রদের অপরূপ দৃশ্য। আসামবস্তি এলাকায় রয়েছে অপরূপ একটি সেতু। বিকেলে ওই সেতুতে বসে কাপ্তাই হ্রদ ও সূর্যাস্তের দৃশ্য অবলোকনের অনুভূতিটাই অন্যরকম।


বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ স্মৃতিসৌধঃ

বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ মুক্তিযুদ্ধের সময় উপজেলা নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে শহীদ হন। স্থানীয় এক পাহাড়ি তাকে ওই স্থানে কবর দেন। পরে রাঙামাটির বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) ওই স্থানে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে। সেটি দেখতে হলে দেশীয় ইঞ্জিনচালিত বোট অথবা স্পিড বোট ভাড়া করে যেতে হবে। 


বরকল উপজেলাঃ

রাঙামাটি জেলার সবচেয়ে বেশি পর্যটন স্পট রয়েছে বরকল উপজেলায়। এই উপজেলায় ছোট-বড় ৮টি ঝর্ণা রয়েছে। রাঙামাটি শহর থেকে নৌপথে বরকলের দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। বরকল উপজেলা সদর ফালিত্যাঙ্গা চুগের পাদদেশে অবস্থিত। সেখানে রয়েছে বরকল উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়, বাজার ও বিজিবি জোন। আগে স্থানীয় লোকজন ফালিত্যাঙ্গা চুগকে অভিহিত করত পাকিস্তান টিলা নামে। ১৯৭১ সালে পাক সেনারা এ পাহাড়ে বড় বড় বাঙ্কার খুঁড়ে আশ্রয় নিয়েছিল বলেই এর নাম হয় পাকিস্তান টিলা। ফালিতাঙ্গ্যা চুগ রাঙামাটির সবচেয়ে সুউচ্চ পর্বত। এর উচ্চতা এক হাজার ৬৬৮ ফুট। এ পাহাড়ের উপর থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। একই সঙ্গে দেখা যায় ভারতের মিজোরাম রাজ্যের আইজল শহর।

সাজেক উপত্যকা

এমনিতে বাংলাদেশের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে পর্যটকদের আকর্ষণ একটু বেশি। আর সে আকর্ষণকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে ‘সাজেক’ উপত্যকা। আয়তনের দিক দিয়ে দেশের বৃহত্তম ইউনিয়ন পাহাড়িয়া ‘সাজেক’। বর্তমানে চাইলে যেকেউ খাগড়াছড়ি হতে চাঁদের গাড়ি রিজার্ভ করে এই উপত্যকায় যেতে পারেন। অথবা রাঙামাটি হতে লংগধু হয়ে ট্রলারে ছড়েও সাজেক যাওয়া যায় । এখানে আঁকা-বাকাঁ উচুঁ নিচু পাহাড়ি পথ ও আকাশের সাথে মেঘের লুকোচুরি খেলা দেখার পাশাপাশি অতি নিকটতম সীমান্ত ভারতীয় অংশের পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করার মতো।


আরণ্যক রিসোর্ট ( aronnok holiday resort )ঃ

রাঙ্গামাটি জেলার সেনানিবাস এলাকায় মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে নির্মিত পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্রের নাম আরণ্যক হলিডে রিসোর্ট। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কতৃক পরিচালিত আকর্ষনীয় এই রিসোর্টে রয়েছে ছোটদের জন্য বিভিন্ন রাইড, হ্যাপি আইল্যান্ড, ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, পেডেল বোট, সুইমিং পুল, রেস্টুরেন্ট কফি শপ। 

রিসোর্টে রুম বুকিং ছাড়াও চাইলে আপনি আরণ্যক রিসোর্ট এর সবকিছু ঘুরে দেখতে পারবেন। এর দ্বিতীয় অংশের হ্যাপি আইল্যান্ডে আছে ওয়াটার ওয়ার্ল্ড, পার্ক, রাইডার, বোট রাইডিং এবং লেকভিউ সুইমিং পুল। হ্যাপি আইল্যান্ডের ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে প্রবেশ টিকেটের মূল্য ১৫০ টাকা। প্রতি সোমবার শুধুমাত্র দর্শনার্থীদের জন্যে প্রবেশ বন্ধ থাকে।


বোট পাবেন যেখানেঃ

ইঞ্জিনচালিত বোট কিংবা স্পিডবোট ভাড়া পাওয়া যায় রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি বাজারের বোট ঘাট, রিজার্ভ বাজারে এবং পর্যটন ঝুলন্ত ব্রিজে পর্যটক দেখলে বোট চালকরা ভাড়া একটু বেশি দাবি করে। তাই দর-দাম করে বোট ভাড়া নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। সারাদিনের জন্য বোট ভাড়া নিলে ছোট বড় ট্রলার বেঁধে ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকায় পাওয়া যাবে।


যেভাবে রাঙামাটিতে আসবেনঃ

ঢাকা থেকে ইচ্ছে করলে সরাসরি রাঙামাটি আসতে পারেন। অথবা চট্টগ্রাম হয়েও আসা যায়। ঢাকার সায়েদাবাদ কলাবাগান , আরামবাগ,ফকিরাপুল,গাবতলি অথবা কমলাপুর থেকে এস আলম সাউদিয়া, ডলফিন, শ্যামলি ও ইউনিকসহ বিভিন্ন পরিবহনে যাওয়া যায় নন এসি বাসের ভাড়া জন প্রতি ৬২০ টাকা। এসি বাসের ভাড়া ১৪০০ টাকা । ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি যেতে সময় লাগবে ৭-৮ ঘন্টা । এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন থেকে এক ঘণ্টা পরপর পাহাড়িকা বাস এবং প্রতি আধা ঘণ্টা পর বিরতিহীন বাস ছেড়ে যায় রাঙামাটির উদ্দেশে। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে রাঙামাটি যেতে সময় লাগবে ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা। ট্রলার ভাড়া নিবেন রিজার্ভ বাজার থেকে তাহলে কম টাকায় ট্রলার ভাড়া নিতে পারবেন । আমাদের ভ্রমনে মাঝির নাম ছিল শঙ্কর , তার মোবাইল নাম্বার - 01868390249,01639048255 ট্রলার ভাড়া নেয়ার সময় অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন । আমাদের মতে আগে থেকে ট্রলার রিজার্ভ নেয়ার কোন দরকার নেই কারন রিজার্ভ বাজারে ট্রলারের অভাব নেই আপনি রাঙ্গামাটি গিয়ে দেখে শুনে এবং দামাদামি করে ট্রলার রিজার্ভ করতে পারেবেন ।

যেখানে থাকতে পারেনঃ একটু নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে চাইলে উঠতে পারেন রাঙামাটি পর্যটন মোটেলে। এখানে সিঙ্গেল রুমের পাশাপাশি ডবল রুমও রয়েছে। প্রতিটি রুমের জন্য ভাড়া গুনতে হবে এসি ২৫০০/- আর নন এসি ১৬০০/- টাকা। ডরমেটরী (প্রতি বেড) ৪০০/- । পর্যটন মোটেলের সকল রুমের ভাড়ার তালিকা দেখতে ওয়েব সাইট লিংক ফলো করুন - http://www.parjatan.gov.bd/site/page/605f5cc8-1963-47bf-aa57-583065c1146d/পর্যটন-হলিডে-কমপ্লেক্স,-রাঙ্গামাটি


এ ছাড়া বেসরকারি হোটেলে রাতযাপন করা যায়। এজন্য ভাড়া নিতে পারেন পৌরসভা কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত হোটেল সুফিয়া(০১৫৫৩৪০৯১৪৯), দোয়েল চত্ত্বরে অবস্থিত নতুন আঙ্গিকে তৈরিকৃত হোটেল প্রিন্স(01775-196664), রিজার্ভ বাজারের গ্রিন ক্যাসেল, কলেজ গেটের মোটেল জর্জ কিংবা বনরূপার হোটেল নিডস হিল, পুরাতন বাসস্টেশনে অবস্থিত হোটেল হিল প্যালেস। 

এসব হোটেলে সিঙ্গেল রুমের ভাড়া ৫শ থেকে ১২শ টাকা নন এসি, ডবল রুম ৯শ’ থেকে ২০০০টাকা। এর বাইরে মাঝারি মানের হোটেলের মধ্যে রয়েছে হোটেল দিগনিটি, সমতা বোর্ডিং, হোটেল আনিকা, হোটেল আল-মোবা, হোটেল সৈকতসহ আরো বেশকিছু আবাসিক হোটেল। তবে নতুন দম্পতিদের জন্য স্মরণীয় একটি দিন হবে যদি তারা থাকতে পারেন পর্যটন কমপ্লেক্সের হানিমুন কটেজে। বিভিন্ন ছুটিরদিনে পর্যটক বেশি থাকার কারণে আগেভাগেই রুম বুকিং দিলে ভালো। তা না হলে রুম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাবে।


অগ্রিম বুকিং দিতে যোগাযোগ করতে পারেন নীচের নাম্বার গুলোতেঃ
পর্যটন মোটেল: ০৩৫১-৬৩১২৬
সুফিয়া হোটেল: ০৩৫১-৬২১৪৫
গ্রিন ক্যাসেল: ০৩৫১-০৩৫১-৬১২০০
মোটেল জজ: ০৩৫১-৬৩৩৪৮
লেক ভিওঃ ০৩৫১-৬২০৬৩
নিডস হিল ভিউ হিল ভিওঃ০১৮২৮৮৪৬২৬৫, ০১৭৩২৯২৩০১২ 
হোটেল প্রিন্স : ০৩৫১-৬১৬০২

আমাদের ১ দিনে রাঙামাটি ভ্রমনের খরচ সমুহ:-

বাস ভাড়া জন প্রতি ৬২০*২=১২৪০ (আসা যাওয়া মিলে ১২৪০ টাকা)

রিজার্ভ বাজার হতে ট্রলার ভাড়া = ২০০০/৪, জন প্রতি ভাড়া ৫০০ টাকা
শুভলং টিকেট জন প্রতি = ১৫ টাকা
ঝুলন্ত ব্রিজ টিকেট জন প্রতি = ২০ টাকা
আর খাবার ৩ বেলা ২০০*৩ = ৬০০ টাকা
মোটঃ ২৩৭৫ টাকা ।
আমরা ৪ জন গিয়েছিলাম এবং আমাদের জনপ্রতি খরচ হয়েছে = ২৩৭৫ টাকা ।

১ দিনে রাঙ্গামাটির ৭ টি স্পট ভ্রমণ করে আসা সম্ভব আমাদের এই ভিডিওতে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া আছে দেখে নেয়ার আমন্ত্রণ রইলোঃ


ট্র্যাভেল বাংলাদেশ টিম সব সময় চেষ্টা করছে আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে। যদি কোন তথ্যগত ভুল কিংবা স্থান সম্পর্কে আপনার কোন পরামর্শ থাকে মন্তব্যের ঘরে জানান অথবা আমাদের মেইল করুন chsaiful@gmail.com। আমরা ঠিক করে নিবো ।
দৃষ্টি আকর্ষণ : আমাদের পর্যটন স্পট গুলো আমাদের দেশের পরিচয় বহন করে এবং এইসব পর্যটন স্পট গুলো  আমাদের দেশের সম্পদ। এইসব স্থানের প্রাকৃতিক কিংবা সৌন্দর্য্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন। আর ভ্রমনে গেলে কোথাও ময়লা ফেলবেন না । দেশ আমাদের, দেশের সকল কিছুর প্রতি যত্নবান হবার দায়িত্বও আমাদের।
সতর্কতাঃ হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহন ভাড়া সহ অন্যান্য খরচ সময়ের সাথে পরিবর্তন হয় তাই ট্র্যাভেল বাংলাদেশে প্রকাশিত তথ্য বর্তমান সময়ের সাথে মিল নাও পেতে পারেন। তাই অনুগ্রহ করে আপনি ভ্রমণে যাওয়ার আগে বর্তমান ভাড়া ও খরচের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে পরিকল্পনা সাজাবেন। এছাড়া আপনাদের সুবিধার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে হোটেল, রিসোর্ট, যানবাহনের জন্য যোগাযোগের নাম্বার দেওয়া হয়। এসব নাম্বারে কোনরূপ আর্থিক লেনদেনের আগে ভালো ভাবে যাচাই করার অনুরোধ করা হলো। কোন প্রকার আর্থিক ক্ষতি বা কোন প্রকার সমস্যা হলে তার জন্যে ট্র্যাভেল বাংলাদেশ দায়ী থাকবে না।
Vlog Tag: rangamati tour 2019,রাঙ্গামাটি এর দর্শনীয় স্থান - ভ্রমণ গাইড,রাঙ্গামাটি ভ্রমণ গাইড,রাঙ্গামাটি দর্শনীয় স্থান,রাঙ্গামাটি,rangamati tourist spot guide,rangamati bangladesh,rangamati tourist spot,rangamati,kaptai lake,natural beauty of rangamati,কাপ্তাই ভ্রমণ,kaptai lake bangladesh,rangamati kaptai lake,কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায়,kaptai lake fishing,rangamati travel guide,rangamati hotels and resorts,রাঙ্গামাটি ভ্রমণ,রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থান

Post a Comment

0 Comments